আলোকিত লালমাই অনলাইন।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-প্রচারণা আজ মঙ্গলবার ভোরে শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় আর কোনো ধরনের মিছিল, জনসভা বা মাইকিং করা যাবে না। ফলে গতকাল সোমবার রাতেই মাঠ গরম করা নির্বাচনী সব কার্যক্রম শেষ করে নিয়েছেন প্রার্থীরা। প্রস্তুত নির্বাচন কমিশনও। সারা দেশে এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে বিশাল এ যজ্ঞের নানা সরঞ্জাম। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। এখন শুধুই ভোটের অপেক্ষা। পরশু দিন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে এ ভোট শুরু হবে। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোট উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার ও পরশু ভোটের দিন সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। আসন সংখ্যা ২৯৯টি (একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত)।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৫১টি। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ জন প্রার্থী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের ২২৯ জন প্রার্থী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ১৯৮ জন প্রার্থী। আর ৫ আগস্ট কেন্দ্র করে গড়ে উঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক।
নির্বাচনের মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি (স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় কিছু অস্থায়ী কেন্দ্রও রয়েছে)। মোট বুথ (ভোটকক্ষ) রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। এর মধ্যে পুরুষ বুথ প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি। আর নারী বুথ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। এবার সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গাজীপুর-২ আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা অন্যান্য আসনের তুলনায় অনেক বেশি।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। একটিতে থাকবে সংসদীয় আসনের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক এবং অন্যটিতে থাকবে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ।
নার্ভাস হয়ে পড়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চান এবং ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ নাটোর সদর ও নলডাঙ্গার ভোটাররা ধানের শীষকেই বেছে নেবেন।
খুলনা: বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি আসনেই এখন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। বিভাগজুড়ে আওয়ামী লীগের নীরব ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটব্যাংক জয় করতে বিশেষ কৌশলে এগোচ্ছে বড় দলগুলো। অধিকাংশ আসনেই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে সমানে সমান লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিভাগের মধ্যে খুলনার ৬টি আসনের ৪টিতে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও দুটিতে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরের একাধিক আসনে ত্রিমুখী ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
সিলেট: গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্লোগান-গান-বাজনা, মাইকিং ও মিছিলের মাধ্যমে শেষ প্রচারণা চালিয়েছেন সিলেটের ৬ আসনের প্রার্থী ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। ব্যানার, মাইকিং আর মিছিল-পথসভায় মুখর সিলেট জেলার রাজনৈতিক মাঠ এখন দৃশ্যত নীরব। তবে এ নীরবতার আড়ালেই চলছে শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক লড়াই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং ভোটের অঙ্ক কষা, সমীকরণ ঠিক করা আর ভোটারদের মন বোঝার চেষ্টায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। ঘরে ঘরে, চায়ের দোকানে, দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ভোটারদের মন কোন দিকে যাচ্ছে।
বরিশাল: গতকাল সকাল থেকে দিনভর নির্বাচনী জনসভা, গণমিছিল করেছেন বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার ২১টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। দলীয় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শেষ নির্বাচনী জনসভা এবং গণমিছিলগুলোয় নেমে আসে জনস্রোত। গান, মিছিল আর স্লোগানে মুখর হয় বিভাগের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়নগুলো।
বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার গণমিছিল বের করেন বেলা ১২টায়। এর আগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করেন তিনি। গণমিছিল ও নির্বাচনী জনসভা রূপ নেয় জনস্রোতে।
রংপুর: রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টায় গ্রাম-পাড়া ও নগরীর অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। কোথাও উঠান বৈঠক, কোথাও পথসভা, আবার কোথাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। নির্বাচনী এলাকার নানা সমস্যা সমাধানে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি-আশ্বাস।
সকালে রংপুর নগরীতে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থনে পেশাজীবী র্যালি বের করা হয়। সেখানে শত শত পেশাজীবী অংশ নেন। পরে বিকেলে জামায়াতের গণমিছিল হয়েছে যেখানে অংশ নেন হাজারো নারী।
এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও শেষ প্রচারণায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিকেলে নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণসংযোগ শেষে সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পাগলাপীরে শেষ জনসভা করেন তিনি।
বগুড়া: বগুড়ার সাতটি আসনেই প্রার্থীরা বড় সমাবেশ ও শোডাউন করেছে। প্রধান দুটি দল বিএনপি এবং জামায়াত প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় এ সমাবেশ ও শোডাউন করেন। আবার অনেক প্রার্থী শেষ দিনে নারী সমাবেশ করেছেন।
শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় বগুড়া-৬ (সদর) আসনের প্রার্থী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ২১টি ওয়ার্ডে মিছিল সমাবেশ হয়েছে। মিছিলে মিছিলে মুখর হয়ে ওঠে বগুড়া শহর।
কক্সবাজার: কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল বিকেলে চকরিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল মাঠে বিশাল জনসভা করে সর্বশেষ শোডাউন করেছেন। জনসভায় লক্ষাধিক লোকসমাগম হয়েছে। এর আগে রোববার সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষে তার নিজের বাড়ি পেকুয়ায় বিশাল মিছিল বের হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক গতকাল বিকেলে চকরিয়া পাইলট হাই স্কুল মাঠে জনসভার মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সর্বশেষ শোডাউন করেছেন।