ফাহিম মুনতাছিমঃ
রাতে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছিলো শারমিন আক্তার(২০) এর গায়ে হলুদ।অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অতিথিদের সামনেই হঠাৎ শারমিন আক্তার এর প্রেমিক মো. রনি চলে আসে আর চিৎকার করে করতে থাকে কান্নাকাটি। পরবর্তীতে মেয়ের পরিবারের বাধায় সে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে।হলুদ এর অনুষ্ঠান শেষে শারমিন আক্তার বাসায় গিয়ে নিজের শয়ন কক্ষে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা নগরীর নতুন চৌধুরীপাড়া এলাকায়।

জানা যায় প্রেমিক রনির(২৬) সাথে অনেক আগে থেকেই সম্পর্ক চলছিলো শারমিন আক্তারের এবং তারা কোর্ট ম্যারিজও করেন।পরে মেয়েটি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।জানাজানি হওয়ার পর মেয়েটির পরিবার মেয়েটিকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দিতে চাইলে, গায়ে হলুদের দিন রাতে মেয়েটি আত্মহত্যা করে।
নিতহ শারমিন আক্তারের পরিবার জানায়,হলুদ অনুষ্ঠানে শারমিন আক্তারের সাথে দেখা করে তার প্রাক্তন প্রেমিক। দলবল নিয়ে এসে শারমিন আক্তারকে এ বিয়ে না করার জন্য অনুনয় বিনয় করে। পরে সবার মধ্যস্থতায় প্রাক্তন প্রেমিক হলুদ অনুষ্ঠান থেকে চলে যায়। তারপর ভোর রাতের দিকে হলুদ অনুষ্ঠান শেষ হলে নিজের বাসায় ফিরে নিজের শয়ন কক্ষে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে শারমিন।
প্রেমিক মো: রনির বাড়ি জেলার আদশ সদর উপজেলার পালপাড়া এলাকায়। সে মৃত তাজুরুল ইসলামে ছেলে।শুক্রবার সকালে প্রেমিক রনি প্রেমিকার মৃত্যু সংবাদ শুনে বিষপান করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রেমিক রনির মা জানান,মেয়েটি আমাদের পুত্রবধূ। কিন্তু আমাদের পরিবারের অবস্থা ভাল না হওয়ায় বউমার পরিবার আমাদের পরিবারের সাথে সম্পর্ক রাখতে রাজি হয়নি,এবং ডিভোর্স ছাড়াই বউমাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চায়।আমাদের পুত্রবধূ ২ মাসের অন্তঃসত্বা।আমার ছেলেও সকালে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে, আমরা এর নায্য বিচার চাই।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোর্শেদ।
ওসি বলেন, ভোররাতের দিকে খবর পাই বাগিচাগাঁও এলাকায় এক তরুনী আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমরা পৌছানোর আগেই স্বজনরা মরদেহ নামিয়ে পাশের ডায়াবেটিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তরুনীকে মৃত ঘোষণা করলে স্বজনরা এ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ বাসায় নিয়ে যায়। আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি গত ২০২০ সালের শেষের দিকে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। মেয়ের ভাই আমেরিকা থাকে। তাই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য ২০২৩ সালের মে মাসের ৫ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বিয়ের আগের রাতে হলুদ অনুষ্ঠান শেষ করে নিজের রুমে এসে দুটি ওড়না দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। তবে ঠিক কি কারনে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত না। ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ অন্যান্য তদন্ত শেষ হওয়ার পর এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে বলে মনে করছি।