প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 1, 2026 ইং
সহিংসতার লাগাম টেনে ধরতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: বিশ্লেষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
যতই এগিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বাড়ছে সহিংসতার ঘটনা। বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও হত্যাকাণ্ড উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটের পরিবেশে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ব্যাহত হতে পারে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও রাজনৈতিক দলগুলোর পুরানো মনোভাবকে অনেকাংশে দায়ী করে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নিষ্ক্রিয়তা, উদাসীনতাকেও দুষছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, ‘ক্যাম্পেইন যখন হয় একজন আরেকজনকে গালিগালাজ করতে থাকেন সেটা একটা সময় সহিংসতার দিকে যাওয়ার একটা পসিবিলিটি থাকে। এখন সেটাই হচ্ছে। একটাই উপায় ছিল সরকার যদি শক্ত কোনো সিগন্যাল পাঠাতে পারতো। এখন পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে শক্ত কোনো সিগন্যাল দেখছি না। রাজনৈতিক দলের যেই জড়িত থাকুক না কেনো তাদের শক্ত সিগন্যাল পাঠাতে হবে।’
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক নাঈম ফেরদৌস বলেন, ‘মাঠের সহিংসতা কমছে না। মাঠের সহিংসতা না কমবার ক্ষেত্রে এই সরকারের সদিচ্ছা কিংবা সামর্থ্য দুটোরই অভাব আছে আমার মনে হয়। সত্যি সত্যিই তারা পুলিশ বাহিনীর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ তৈরি করতে পারেন নাই। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেভাবে ছেড়ে দিয়ে রেখেছে, যেটাকে মব বলে বহু মানুষকে যেকোনো দাবিতে যেকোনো পর্যায়ে আন্দোলন করতে দিয়েছে। সেখানে যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটিয়েছে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটিয়েছে তাদেরকেও জবাবদিহিতা ও শাস্তির আওতায় আনেনি।’
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, ‘প্রশাসন যে ব্যবস্থা নিচ্ছে শোকজ করা, কাউকে সতর্ক করা এগুলো বাংলাদেশের বাস্তবতায় খুবই মামুলি অবস্থা। দেশের আইন ও প্রচলিত ব্যবস্থায় নির্বাচনী যে আচরণবিধি সেটি অনুযায়ী যথাযথ যে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তখন সংঘাত সহিংসতা কমে আসবে এছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন।’
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া শরীফ ওসমান হাদি। এরপর ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহে প্রচারণার সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন নজরুল ইসলাম নামের আরও একজন। সবশেষ গত বুধবার শেরপুরে বিএনপি জামায়াত সংঘর্ষে নিহত হন জামায়াত নেতা রেজাউল করিম। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা।
পুলিশ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর থেকে কমপক্ষে ২০০ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ ৭৩টি, প্রচারকাজে বাধা ২২টি, হামলার ঘটনা ১৫টি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ১৪টি এবং প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ৯টি।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দুই সপ্তাহ না যেতেই সারাদেশে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। তফসিল ঘোষণার পর থেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। এরমধ্যে ৪ জন নিহত হয়েছেন প্রচারণা শুরুর পর।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোকিত লালমাই ডট কম