প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 6, 2025 ইং
লালমাইতে উপজেলা শিক্ষক পরিবারের নামে শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা - অবগত নয় শিক্ষা অফিস; উপস্থিত হওয়ার জন্য শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ

লালমাই প্রতিনিধি।।
লালমাই উপজেলা শিক্ষক পরিবারের আয়োজনে শিক্ষার মান উন্নয়নে উপজেলার ছোট শরীফপুর ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছোট শরীফপুর ডিগ্রি কলেজর অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন না উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।
তবে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাঙ্গলকোট- লালমাই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল গফুর ভূইয়া সহ লালমাই উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে ছোট শরিফপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষকদের উদ্যোগে শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষে মতবিনিময় সভা করছি। অনুষ্ঠানে মেহমান কারা থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন কোন মেহমান থাকবেনা। উপজেলা শিক্ষা অফিস এ বিষয় সম্পর্কে জানে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি শিক্ষা অফিসার কে অবগত করেছি।
শিক্ষকদের কে উপস্থিত করাতে চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, চাপ প্রয়োগ করার প্রশ্নই আসেনা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব
জাফর আল সাদেক বলেন আমি এ বিষয়ে অবগত নই।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মোহাম্মদ উল্লাহর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিও আপনাদের মতো শুনেছি। এ বিষয়ে আমি ছোট শরীফপুর ডিগ্রি কলেজের অধক্ষ ফারুক আহমেদ কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এটা আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা উদ্যোগি হয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছি। শিক্ষক পরিবারের নামে ব্যানার হবে এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি সম্পর্কে আমার সাথে কোন কথা হয়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবগত করানো ছাড়া শিক্ষা পরিবারের ব্যানারে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং এ বিষয়ে বিধি ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন- এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে আলাপ করে আমরা ব্যবস্থা নিব।
লালমাই উপজেলার ইউএনও জনাবা উম্মে তাহমিনা মিতুর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমাকে শিক্ষা অফিসার জানিয়েছে, আমি ওনাকে খোঁজ খবর নিতে বলেছি। তবে আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি।
শিক্ষক পরিবারের ব্যানারে অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক নেতার নির্বাচনী মিটিংয়ের আইনী ভিত্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ করলে বা আমাদের নিকট চাকুরী বিধি বহির্ভূত কোন আচরণ পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে অবশ্যই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য এ বিষয়ে উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ। তারা বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ হটানোর পর এখনো যদি শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক মিটিংয়ে নেওয়া হয় তাহলে দেশের আর কি পরিবর্তন হলো?
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোকিত লালমাই ডট কম