কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বোরকা পড়ে যুবলীগ নেতা জামাল হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে এসেছে অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম সৈকত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে। কুমিল্লা সিনি. জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া সেই ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে মাজহারুল অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেন।
ছাত্রলীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম সৈকত অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আদালতে বলেন, 'যুবলীগ নেতা জামাল হত্যার দুই থেকে তিন দিন আগে (৩০এপ্রিল) একটি আশ্রমের পাশে আমাকে ফোনে ডেকে নেয় মাসুদ। সেখানে মাসুদের সাথে আরিফ, কালা মনির, দেলোয়ার, শাহ আলীসহ কালো মাইক্রোবাসে বেশ ক'জন ছিল। মাইক্রোবাস থেকে একটি ভারী ব্যাগ আমাকে দেন মাসুদ (যেটি পরে উদ্ধার করে অস্ত্র পায় গোয়েন্দা পুলিশ)। ব্যাগটি মাসুদের ঘরের আলমিরাতে রেখে আসতে বলে৷ আমি ব্যাগটি মাসুদের স্ত্রীর সাহায্যে আলমিরাতে রেখে আসি। এরপর তারা সকলে নোয়াখালীর সূবর্ণচরে চলে যায়'।
মাজহারুল আদালতে আরো বলেন, গত ২মে দাউদকান্দিতে যুবলীগ নেতা জামাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মিডিয়াতে দেখতে পাই। ৯মে মাসুদ আমাকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। তার বাড়ি থেকে সেই ভারী ব্যাগটি নিয়ে আমার মোটর সাইকেলে উঠেন। আমাকে চান্দিনা উপজেলা বাজারের দিকে যেতে বলেন। সেখানে ফার্মেসী মার্কেটের পেছনে একটি মোবাইল ভর্তি ব্যাগ লোকিয়ে রাখেন। ভারী ব্যাগটি নিয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে চান্দিনা রোডের পশ্চিমে যেতে বলেন। সেখানে একটি ঝোপে ভারী ব্যাগটি লোকিয়ে রাখেন'।
সেই ব্যাগটি উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ব্যাগ থেকে দুইটি অত্যাধুনিক বিদেশী পিস্তল ও একটি রিভলবার পায়। ১০মে ছাত্রলীগ নেতা মাজহারুলকে গ্রেফতার করে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর একদিন পর মালদ্বীপে পলায়ন কালে দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মো মাসুদকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মাজহারুলের স্বীকারোক্তির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের অস্ত্রের মালিককে খোঁজে পেতে যাচ্ছে পুলিশ।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মাজহারুলকে প্রধান করে মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ছাত্রলীগ নেতা মাজহারুলের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওসি রাজেস বড়ুয়া জানান, 'চান্দিনা থানার অস্ত্র আইনে করা মামলার প্রধান আসামী মাজহারুল আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আমরা গভীর ভাবে তদন্ত করছি৷ আশা করছি জামাল হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য বেড়িয়ে আসবে '।
উল্লেখ্য, মাজহারুল ইসলাম সৈকত বরকামতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের অনুসারী। চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মাসুদ যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন হত্যা মামলার ১০ নাম্বার আসামী। কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরিপুর বাজারে গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন খুন হন। তিনজন বোরকা পরে এসে তাকে গুলি করে হত্যা করেন।
নিহত জামাল হোসেন তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। তিতাস উপজেলায় বাড়ি হলেও তিনি ব্যবসায়িক সূত্রে পাশের দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর বাজারের পাশে ভাড়া বাসায় থাকতেন।